নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে জীবন সংগ্রামে অবিচল থেকে সফলতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন গুণী শিক্ষক ও সমাজসেবক মনোয়ারা বেগম।
শিক্ষা ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদান রেখে তিনি শুধু নিজেই স্বাবলম্বী হননি, বরং সমাজের অন্যদেরও এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যুগিয়েছেন।
দুপচাঁচিয়া কালীতলা মহল্লায় জন্মগ্রহণ করা মনোয়ারা বেগম ছিলেন পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয়। পিতার সামান্য আয়ে চলা সংসারে হঠাৎ তার একমাত্র ভাই ক্যান্সারের আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমে তিনি লেখাপড়া চালিয়ে যান।
শিক্ষাজীবনে তিনি ধারাবাহিক সাফল্যের স্বাক্ষর রাখেন। ১৯৮২ সালে এসএসসি, ১৯৮৪ সালে এইচএসসি, ১৯৮৭ সালে প্রাণিবিদ্যায় সম্মান, ১৯৯১ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি এবং ১৯৯৫ সালে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন কৃতিত্বের সঙ্গে।
১৯৯২ সালে দুপচাঁচিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (বিজ্ঞান) হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরে ১৯৯৪ সালে দুপচাঁচিয়া মহিলা কলেজে প্রভাষক (জীববিজ্ঞান) হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে নিষ্ঠা ও সততার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০২ সালে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান এবং ২০১৯ সালে উপাধ্যক্ষ পদে উন্নীত হয়ে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষাক্ষেত্রে তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৯-এ উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন। এছাড়া ২০২৪ সালে তিনি সম্মানজনক “জয়িতা পুরস্কার” লাভ করেন।
শুধু শিক্ষাক্ষেত্রেই নয়, সমাজসেবায়ও তিনি সমানভাবে সক্রিয়। বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের উপদেষ্টা,দুপচাঁচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের দুইবার সভাপতি নির্বাচিত হন। এছাড়া সম্মিলিত প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, ভিডব্লিউবি কমিটি সদস্য, WAVE এর কো -অর্ডিনেটর, দি হাঙ্গার প্রোজেক্ট এর পিএফজি সদস্য,উপজেলা নির্বাচন পরিষদ, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা, ইন্টার ফেইথ পিচ প্ল্যাটফরম এর সদস্য নির্বাচিত হন এবং সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক উপজেলা কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি দুপচাঁচিয়া নারী উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি হিসেবে নারীদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।
১৯৮৮সালে ব্যাংক কর্মকর্তা ও ফুটবলার মাহমুদার রহমান মিলু সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে স্থায়ীভাবে পুরাতন বাজার এলাকায় বসবাস শুরু করেন তিনি। স্বামী অনুপ্রেরণা ব্যক্তিগত জীবনেও সফল মনোয়ারা বেগম তার একমাত্র সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক হিসেবে।
মনোয়ারা বেগমের জীবন সংগ্রাম, অধ্যবসায় এবং সমাজের প্রতি তার অবদান নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তিনি নিঃসন্দেহে একজন গুণী শিক্ষক ও সমাজসেবক। তার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন এলাকাবাসী।