শ্রীপুরে ব্যক্তি মালিকানা জমি বনবিভাগের গেজেট থেকে অবমুক্ত করণে ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
শ্রীপুরে ব্যক্তি মালিকানা জমি বনবিভাগের গেজেট থেকে অবমুক্ত করণে ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন ছবি:
শ্রীপুরে ব্যক্তি মালিকানা জমি বনবিভাগের গেজেট থেকে অবমুক্ত করণে ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন ছবি:

 

গাজীপুরের শ্রীপুরে ব্যক্তি মালিকানা জমি বর্ণ বিভাগের গেজেটভূক্তি থেকে অবমুক্ত করণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করছে স্থানীয় ভুক্তভোগী জনগণ তাদের দাবির প্রতি ৭১ টা ঘোষণা করে অংশ নেন নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশন, শ্রীপুর সাহিত্য পরিষদ এবং শ্রীপুর পৌর সচেতন নাগরিক ফোরাম নামে কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

 রবিবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া গরুরহাট এলাকায় উক্ত সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। 

ভুক্তভোগী  নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মিসকাত রাসেলের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, ভুক্তভোগী ও মুক্তিযোদ্ধা কলেজের অধ্যাপক এমদাদুল হক, শ্রীপুর সাহিত্য পরিষদের সভাপতি রানা মাসুদ ও ভুক্তভোগী জামাল উদ্দিনসহ অনেকে। 

লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, ভুক্তভোগী নদী ও  প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম। লিখিত বক্তব্য পাঠ কালে খোরশেদ আলম উপস্থিত সাংবাদিক ও অন্যান্যদের উদ্দেশ্য করে বলেন, 

আপনারা নিশ্চয় অবগত আছেন, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং- আ-স/পত্র নং পঃ বঃ মঃ (শাঃ-৩) ৩৩/২০০০। ১১১৩ তাং ১০/১১/২০০৪ ইং মোতাবেক ভূমি মন্ত্রানলয়ের স্বারক নং- ভূ: মাঃ- শা-৯ (আইন) ১১/০৪/-৬৬০/১ (৬৪) তাং-২৩/০৫/০৬ ইং স্মারকের পত্রের নির্দেশনা মোতাবেক বনের গেজেটভুক্ত জমির সাথে একই দাগে আংশিক ব্যক্তি মালিকানাধীন জোত জমি থাকায় ১৯২৭ সালের বন আইনের ২০ ধারা মতে বনের গেজেট চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত জমি হস্তান্তর, নামজারী ও সরকারি রাজস্ব আদায় ইত্যাদি কার্যক্রম সাময়ীকভাবে বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশনা রয়েছে। যা ন্যায় বিচার ও জনকল্যাণের স্বার্থে এখনই বাতিল/প্রত্যাহার করা অপরিহার্য।

 

তাছাড়া ভূমি মন্ত্রণালয়ের উক্ত পত্রের তোয়াক্কা না করে বন বিভাগ বনের অংশে খাজনা পরিশোধ করে যাচ্ছে এবং রাজস্ব বিভাগ তা' গ্রহন করছে। কিন্তু ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির সিএস, এসএ, আরএস, রেকর্ড ও ২৩/০৫/২০০৬ খ্রি. পত্র জারীর পূর্বে নামজারীকৃত এবং খাজনা পরিশোধকৃত জমির ধারাবাহিক সমস্ত কাগজপত্র থাকার পরও খাজনা/ ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা যাচ্ছে না এবং বন বিভাগের ৪ ও ৬ ধারা গেজেট নোটিফিকেশনভুক্ত জমির চূড়ান্ত ২০ ধারা মতে প্রকাশিত দাবিকৃত সম্পূর্ণ জমি থাকার পরও বন বিভাগ দেওয়ানী আদালতে রেকর্ড সংশোধনী ও বিভিন্ন মামলা দিয়ে ব্যক্তি জোতদারদের হয়রানি করছে।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয় থেকে ১৯২৭ সালের বন আইনের ২০ ধারায় প্রজ্ঞাপন ২৭ মে ২০১২, ১৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২৮ জুলাই ২০১৩, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৩ এবং ০১ ডিসেম্বর ২০১৯ সহ গাজীপুর জেলার সকল উপজেলার আওতাভুক্ত মৌজার ২০ ধারা মতে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়ে বিজি প্রেস থেকে বনের প্রকৃত জমির প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। এই কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পরও স্থানীয় জনগণ উক্ত ২০ ধারা চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনের সুবিধা হতে বঞ্চিত হচ্ছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির মালিকগণ একাধিক বার পরিবেশ, বন ও ভূমি মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি অফিসে খাজনা পরিশোধের জন্য দরখাস্ত দাখিল করেও কোন সমাধান পাচ্ছেন না। জেলা প্রশাসক গাজীপুর এর স্মারক নং-২২৪০, তাং-২০/০৮/২০১৮ ইং ভূমি উন্নয়ন কর গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। সেই বিষয়ের অদ্যাবধি কোন সুরাহা হয়নি।

 

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১৮/০৫/২০১১ইং সহ একাধিক নির্দেশনা প্রকৃত বনের জমি বাছাই/চিহ্নিত করে জটিলতা দূর করার নির্দেশনা রয়েছে। যা বন বিভাগ ও ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারিগণের অসৎ উদ্দেশ্যের কারণে বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। ফলে বন ও ব্যক্তি জোতের মালিকগণ নানা রকমের জটিলতাসহ, অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন।

 

ব্যক্তিজোত জমিতে সরকারিভাবে সীমানা নির্ধারণ করতে দরখাস্ত দাখিল করলে বনবিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ সীমানা নির্ধারনের নোটিশ পাওয়ার পরও সময় মতো আসেন না। উক্ত সীমানা নির্ধারণী তফসিলভুক্ত জমিতে দেওয়ানী আদালতে মামলা রুজু করে এবং সীমানা নির্ধারণী স্থগিতের আদেশ চেয়ে দরখাস্ত দাখিল করেন। ফলে আর সীমানা নির্ধারণ করা যায়নি। স্থানীয় জমির মালিকগণ রাজস্ব পরিশোধের জটিলতাসহ নানারকম সমস্যা দুঃখ, কষ্ট ও হতাশার মধ্যে জীবন যাপন করছে। অন্যদিকে অবকাঠামো উন্নয়নে বাধা, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন, কলকারখানা স্থাপন, ভূমির মালিকগণ বাড়িঘর নির্মাণ ও গাছপালা রোপন করতে পারছে না সাধারণ জনগণ। ভোগান্তির শিকার হচ্ছে পাশাপাশি সরকারও কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।এসময় তিনি কয়েকটি দাবী ও প্রস্তাবনা উল্লেখ করেন।

বক্তারা বলেন, গেজেট ভুক্ত হওয়ায় নিজের রেকর্ডীয় জমিতে ঘর নির্মাণ করতেও বন কর্মীদের বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়। তাদের অর্থ বা অন্যান্য উপায় অবলম্বনে ম্যানেজ করে ঘর বাড়ি নির্মাণ করতে হয়। তাছাড়া গেজেট ভুক্ত হওয়ায় নামজারী করছে না প্রশাসন। ফলে জরুরি প্রয়োজনে যেমন হজ্বে গমন,চিকিৎসা, বিয়ে ইত্যাদি কাজে জমি বিক্রি করতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করছে এলাকার মানুষ।

জনগনের বৃহত্তর স্বার্থে বিষয়টি তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি আহবান জানানো হয়।

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত